Thursday, 29 June 2017

কবিতা

 জয়দেব বাউরী




ঘর 

যতবার ফিরিয়েছ উষ্ণ থর বয়ে গেছে পায়ে
তুর্কী আক্রমণ পর বাংলা সাহিত্য যেন দু'চোখ !

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হয়ে তবুও তো গেছি বারবার

আদরে অনুরাগে বসিয়েছ ভেতরের ঘরে

আবারো সুনামি হবে? তোমারই নিগূঢ় খেয়ালে?
বহুদূরে ভেসে যাবে, সরে যাবে বসতি আমার?

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হয়ে কল্লোল পত্রিকা হয়ে তবু
দুর্নিবার কাছে যাই, বসে পড়ি দুয়ারে তোমার





দশক


নতুন আকাশ নতুন প্রহর জাগে
সবুজ অবুজ শস্যের অনুরাগে

কার পথ চেয়ে, কারই প্রতীক্ষায়
ফুলে ফুলে পথ শাখাগুলি ভরে যায় ?

ভাঙাচোরা মন কোমর নদীর বাঁকে
অনুভূতি ফোটে শব্দের ঝাঁকে ঝাঁকে

নতুন কলম নিজেই গঙ্গানদী
আর্শিনগর, কৃষিকাজ নীরবধি...

লেখো কলরব, শ্বাসরোধী-দিন, শোক
নতুন নগর উন্মোচিত হোক






  লেখা


সে তো আসছে বহুদূরের থেকে থেকে
তার সে পথে পাহাড়-নদী টিলা
কখনো ঝড় বৃষ্টি নামে ঝেঁপে
তাকে আহত করে আগ্নেয় শিলা !

সে আগ্নেয় জিন গড়ানো লাভা
আগুন জ্বলা ছায়া নিবিড় পথ
তবুও তার আগমনের আভা
পূব আকাশে  ছড়িয়ে গেছে মথ

আর সে আসে এসব কিছু ভেঙে
সময় কিছু সময় শুধু বয়
শস্যে দানা জমাট বেঁধে এলে  
সেই সে আলো  নিজের কথা কয়

ততটি খণ ধ্যানমগ্ন  চাঁদ
ততটি খণ নিটোল আরাধনা
সে শুভ সৎ ; অতিথি মেহমান...

কেন্দ্রে থাক প্রার্থিত বাসনা









কবিতা

অনুক্তা ঘোষাল
 


চুপ কথা

  
কেমন করে সাজাই কথা বলো, কেমন করে গল্প গুলে খাই
আঁচল খুলেই বাঁধব যখন হাত কেমন করে ফস্কাব সেই ঠাঁই?
বন্ধ চোখে স্বপ্ন জ্বেলে আলোর, কেউ রাখেনি অঙ্গীকারের  দায়
রাত পোহালেই উল্টো পথে পাড়ি, তখন আমি আমার সীমানায়
হাজার কথা মাখছি পেটে বুকে, শেষ মানেনি হাত যেখানে তাতে
হার মেনেছি সেই তো খিদের ডাকে সবুর যখন মুখ ঝোঁকালো ভাতে
আমার থেকে আমায় করে চুরি যখন ছুটি শেষ প্রহরের ডাকে
তখন শুধু মনের কাছাকাছি, শরীর টুকুই  আটকে থাকে খাটে
নীরব রাতে যখন আঁধির সাড়ায় ঠান্ডা চোখে ডুকরে ওঠে ব্যাথা
শক্ত  হাতে লুকাই বুকের খাঁজে নিচুপ মনের গোপন সে চুপকথা



আজও কিছু কথা


আজও কিছু কথা মগজে ভিড় করে থাকে
ঠোঁট  বেয়ে কিছু নামে পাতে,
লাগামের পোষ মানে কিছু দিগ্বিজয়
কিছু  শুধু দূরে হাসে গন্ধে মাতাতে

তবু আজ ধরাধরি, মাখ তেল ফেল কড়ি
অন্ধকার  বুক চুষে খায়
আঁশ হুল ছুলে কেন পরিপাটি আঁচড়ানো
পিঠ টান, স্ক্যান্ডাল পাতায় পাতায়

এইভাবে তড়িঘড়ি নাম বাড়ে ভুরিভুরি
কিছু  মরে বেঘোরে , চোরা কোনো বাঁকে
তবু কিছু উস্কায় চাহনির মহিমায়
অন্ধকারে  ঝোঁকে মুখ দুপায়ের ফাঁকে


বিসর্জন      


আঁধার কোলে জ্যোৎস্না আবেশ তিলোত্তমার রাত
রিক্ত শরীর স্বত্ব ভাসান নীরব আর্তনাদ
গহন আঁধার খুলছে টেনে মুখোশ আড়াল মুখ
অতল কালো , লুব্ধ হনন , নারী কায়ার সুখ
আত্মগ্লানির নিত্য ছোবল লজ্জাভেজা শাড়ি
সত্ব  বিলোপ , অর্থে নিলাম , মায়াশরীর নারী
অস্থিজলে আত্মাহূতি , অবাধ সমর্পণ
পতিতা  নামেই সমাজ দিল দেবীর বিসর্জন



কবিতা

মুহম্মদ মতিউল্লাহ্‌


পেপার ওয়েট


সমস্ত দুপুর আর বাবার চোখের উদাসীনতা জুড়ে স্তব্ধ টেবিল
তার ভেতরে জেগে আছে পেপারওয়েট
মাছের পীতের মত রঙ, গায়ে হলুদ দাগ, ভয়ংকর বাঘ নয়
শুধু স্তব্ধতার, প্রত্ন-প্রহরের ছাই চাপা আগুন

পাণ্ডুলিপি ছিঁড়ে শেষ হয় বাতাসের ভারে। অবনত সন্ধ্যায়
বাবার তসবিহ জুড়ে ধ্বনিত মন্ত্রোচ্চারণ : আত্মজীবনীর
প্রথম পাতায় চুপচাপ বসে থাকে নিরীহ পেপারওয়েট


গৃহী বালক


কত উদ্বেগ ভরা রোদ্দুর, তার ম্রিয়মাণ ছায়া কাঁপছে বনে
সবকটি রোদ চশমা নিয়ে খেলা করবে, বালক বলেছিল
আকাশ প্রতিম করুণা মেঘের ভারে ঝরে পড়ছে
সৌর গ্রহণের  অলীক গল্পে কী অসহায় বালক ঘুড়ি ছিঁড়বে আজ

কত একা অই সূর্য       কত দুঃখ কত দুঃখ কেউ শুনছে না
কত পথিক চোখ মেলছে       কেউ শুনছে না
মন খারাপের গল্প গৃহী বালক কাকে লিখবে

কত ব্যপ্ত আনন্দ      আজ আকাশ বলছে, না




প্রাক্তন গার্হস্থ্য


বিকেলে বৃষ্টি নামল কবরখানার মাঠে। বিশুদ্ধ প্রণাম থেকে
মনুষ্যের স্তবতাপ থামিয়ে ভিজছেন পিতৃপুরুষেরা
সবুজ এবং পড়ন্ত খেজুর পাতা মোড়া নিষ্পল্লব অই অন্ধকার
কী ভীষণ অসহায়, একা

প্রাক্তন গার্হস্থ্য মাটির গভীর থেকে উঠে আসছে এবং
অন্ধকার ব্যাপ্ত করে আলোকিত স্বপ্নের মত
পৃথিবীর কনিষ্ঠতম ধর্ম-গ্রন্থের পাতাটি দুলে উঠল আকণ্ঠ তৃষ্ণায়




কবিতা


দিশারী মুখোপাধ্যায়




রক্ত দীঘি



নিরামিষ নখ দিয়ে আমি
                         অতিকষ্টে
                           ছোট একটা
                           পুকুর কেটেছি

তারপর সারারাত স্বপ্ন দেখেছি
           ডেকেছি , এসো জলপরী
                             ভরে দিয়ে যাও
                                 আমার পুকুর
সামান্য কিছুটা জল
                   বরাদ্দ হয়েছিল
                                আমার জন্য
                                        অবশেষে
এরপর আমি আর খোঁড়াখুঁড়ি
                         করিনি কখনো
                                        এমনকি
                            লটারির টিকিটেও

তবু , কীকরে যে এরকম হয়
        আমার বুকের কানা বেয়ে
                                      জল নয়
                                       রক্ত গড়ায়




 তুষার আগুন



ফাটা পাথরের
      শত চির বেয়ে বেয়ে আসা
                    যৎসামান্য কান্নাটুকু
                                 জমিয়েছিলাম
                                                 এইখানে
চুরি হয়ে গেছে
              সেই কান্নাটুকু
                     সামান্য হলেও
                       হয়তো বাড়িয়েছে
                          কোনো কর্পোরেট পুঁজি
হন্যে হয়ে খুঁজি
                  নোনাজল
           আঁচড়াই  কামড়াই
           চিরে ফালাফালি করি
                                  তবু নিষ্ফল
                              রক্ত নেই রস নেই
                                             যন্ত্রণাও নেই
অনেকটা বালির স্তর
      সরাতে সরাতে অবশেষে
                                       হাতে ঠেকে
                                           তুষার আগুন











 আমার চশমা




আমার চশমা

        আমার মাথার কাছে

                   খুলে রাখা আছে



আমি যখন ঘুমাই

           সে আমাকে

                      আড় চোখে দেখে

আমার চশমা

              আমার সমস্ত দেখা

                                সঞ্চয়ে রাখে

আমি যখন ঘুমাই

      সে আমার দেখা গুলো নিয়ে

                              নাড়াচাড়া করে



আমার চশমা

                আমার কাছ থেকে

                                  দূরে সরে যায়

চশমার অভাবে আমি

                          স্বপ্নগুলো

                                    স্পষ্ট দেখি না